পশ্চিমবঙ্গ

নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর: শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থান ও পালাবদলের গল্প

কলকাতা, ৫ মে – পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০১১ সালের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূলে ছিল নন্দীগ্রাম আন্দোলন, যার অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থানে তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও আপসহীন নেতৃত্ব বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় সেই সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে শুভেন্দুর দূরত্ব তৈরির পেছনে মূলত দলীয় কাঠামোর পরিবর্তন এবং নেতৃত্বের ভারসাম্য নিয়ে অসন্তোষ কাজ করেছে। বিশেষ করে তৃণমূলের যুব নেতৃত্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান এবং শুভেন্দুকে সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এই ফাটলকে আরও প্রশস্ত করে। একদা প্রণব মুখোপাধ্যায় তাকে সতর্ক করেছিলেন যে এই দলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

পরবর্তীকালে প্রশান্ত কিশোরের কৌশলগত অবস্থান শুভেন্দুর দলত্যাগের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি বিরোধী রাজনীতির অন্যতম শক্তিশালী মুখ হিসেবে আবির্ভূত হন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তার লড়াই এবং বিজয় এক বিরল রাজনৈতিক নজির সৃষ্টি করেছে।

অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্মতিতে তিনি এই কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন। তৃণমূল ত্যাগের পর তাকে অসংখ্য আইনি জটিলতা ও মামলার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সহযোগিতায় তিনি মাঠপর্যায়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন। স্বপন দাশগুপ্তের মতো জ্যেষ্ঠ নেতারাও স্বীকার করেছেন যে শুভেন্দুই বিজেপিকে নতুন করে লড়াই করার শক্তি জুগিয়েছেন।

নন্দীগ্রামের সেই লড়াকু মেজাজ তিনি ভবানীপুরের নির্বাচনেও বজায় রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছেন। আগামী ২৫ বৈশাখ তার শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

এস এম/ ৫ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language