বাংলায় ফুটল পদ্মফুল: ২০৬ আসনে এগিয়ে বিজেপি, মোদির আবেগঘন বার্তা!

কলকাতা, ৪ মে – এক দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে পরিবর্তনের সুষ্পষ্ট ইঙ্গিত। গত ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পথে এগোচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, গেরুয়া শিবিরের ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবং নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি বর্তমানে ২০৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮২টি আসনে এগিয়ে আছে। গত নির্বাচনের তুলনায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা এক ধাক্কায় কমেছে প্রায় ১৩২টি। বাম-কংগ্রেস জোটের কোনো উল্লেখযোগ্য অস্তিত্বই এবার নজরে পড়েনি।
দলের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লেখেন: “পশ্চিমবঙ্গে পদ্মফুল ফুটেছে! ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের জয় হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়যুক্ত হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষের কাছে মাথা নত করছি।”
প্রধানমন্ত্রী আরও আশ্বস্ত করেছেন যে, এই ‘অভাবনীয় ম্যান্ডেট’ অনুযায়ী বিজেপি সরকার বাংলার মানুষের স্বপ্ন পূরণ ও সুশাসন নিশ্চিত করবে। তিনি প্রতিটি স্তরের মানুষের মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দুই দফায়—২৩ ও ২৯ এপ্রিল। ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করা হলেও, ব্যালট এবং ইভিএমের রায় সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া (Anti-incumbency) এবং কর্মসংস্থান ও দুর্নীতির ইস্যুগুলো তৃণমূলের এই ভরাডুবির প্রধান কারণ হতে পারে।
যদি বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকে, তবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এটি হবে এক অভাবনীয় পরিবর্তন। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের পর এবারই প্রথম কোনো অ-আঞ্চলিক দল বাংলার শাসনভার গ্রহণ করতে যাচ্ছে। কলকাতার রাজ্য সদর দপ্তরসহ জেলাগুলোতে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।
এনএন/ ০৪ মে ২০২৬









