মমতার বিদায়ঘণ্টা! ‘মুসলিমরা ভোট দিলেও কাজ হয়নি’, জয়ের পর হিন্দুত্বের হুঙ্কার শুভেন্দুর

কলকাতা, ৫ মে – পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাসে এক অকল্পনীয় অধ্যায়ের সূচনা হলো। যে ভবানীপুরকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপরাজেয় দুর্গ মনে করা হতো, সেই আসনেই ঘাসফুল উপড়ে পদ্ম ফোটালেন শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে শুভেন্দু ঘোষণা করেছেন— বাংলায় এখন ‘মমতা-যুগ’ শেষ, শুরু হলো নতুন ভোরের।
জয়ের পর উচ্ছ্বসিত শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের সমীকরণ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে ভোট পড়েছে ধর্মের ভিত্তিতে। শুভেন্দু বলেন: “মুসলিমরা প্রকাশ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিয়েছেন। বিশেষ করে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে আসা মুসলিম ভোটারদের সবাই তাঁকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু হিন্দু, শিখ, জৈন এবং বৌদ্ধরা আমাকে আশীর্বাদ করেছেন বলেই আজ আমি জয়ী। এই জয় আসলে হিন্দুত্ববাদেরই জয়।”
শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এই পরাজয় কেবল একটি আসনের হার নয়, এটি তৃণমূল নেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন যে, ভবানীপুরের মানুষ মমতাকে প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে তাঁর রাজনীতি থেকে অবসরের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিজের খাসতালুকে এই হার মমতার দলীয় নেতৃত্বের ওপরও বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরে শুভেন্দুর এই জয়ের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে, হিন্দু ভোটের একাট্টা হওয়া: শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, অ-মুসলিম ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপির পক্ষে রায় দিয়েছে। এলাকার ক্ষোভ: স্থানীয় উন্নয়ন এবং দুর্নীতির ইস্যুতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ইভিএমে ফুটে উঠেছে। ক্লিন ইমেজ বনাম প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা: মমতার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে মানুষের যে ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’ ছিল, শুভেন্দু তাকে কাজে লাগাতে পেরেছেন।
ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই ফেসবুক ও টুইটারে শুভেন্দুর বক্তব্য নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। কেউ এই জয়কে ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলছেন, আবার কেউ শুভেন্দুর ধর্মীয় মেরুকরণের বক্তব্যের সমালোচনা করছেন। তবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে সত্য এটাই যে— ভবানীপুরের তখত এখন বিজেপির দখলে।
এই জয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানকে এক ধাক্কায় অনেকটা উঁচুতে নিয়ে গেল। মমতার মতো হেভিওয়েট নেত্রীকে তাঁর নিজের ঘরে হারিয়ে শুভেন্দু প্রমাণ করলেন, তিনি এখন বাংলার রাজনীতির নতুন ‘জায়ান্ট কিলার’।
এনএন/ ৫ মে ২০২৬









