বাংলায় ‘পদ্ম’ উদয়: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নবান্ন দখলে বিজেপি!

কলকাতা, ৪ মে – পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মহাপ্রলয় ঘটে গেল। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলার মসনদ দখল করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আজ সোমবার ভোট গণনার শেষে দেখা যাচ্ছে, গেরুয়া ঝড় কেবল তৃণমূলের দুর্গই ভাঙেনি, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়েছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য একটি দলের প্রয়োজন ছিল ১৪৮টি আসন। সেখানে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫৬টি আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি। আর তারা সবমিলিয়ে ২০৮টি আসনে এগিয়ে আছে। বিশাল বিপর্যয়ের মুখে পড়ে মাত্র ৮৪টি আসনের আশেপাশে থমকে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল ভবানীপুর আসন। নিজের ঘরের মাঠে বিজেপি প্রার্থী ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে হারের পর এবার ভবানীপুরেও শুভেন্দু-কাঁটায় বিদ্ধ হলেন তৃণমূল নেত্রী।
ফলাফলের প্রাথমিক প্রবণতা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন: বিজেপি অন্তত ১০০টিরও বেশি আসন লুট করেছে। এছাড়া গণনাকেন্দ্রে তাকে ধাক্কা দেওয়া ও হেনস্তা করা হয়েছে।
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনাকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেয় উত্তেজিত জনতা। এরপর তিনি কালীঘাটে তাঁর বাসভবনে ফিরে যান।

বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়কে বাংলার মানুষের জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লি থেকে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “বাংলার পবিত্র ভূমিতে এক নতুন সূর্যোদয় হয়েছে। বাংলা এখন ভয় থেকে মুক্ত হয়ে আত্মবিশ্বাস ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।”
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, কংগ্রেস, তৃণমূল ও ডিএমকে নারী সংরক্ষিত আসনের বিরোধিতা করায় তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের নারীরা ব্যালটের মাধ্যমে তাদের উচিত শিক্ষা দিয়েছে। মোদী এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব বাংলার সাধারণ মানুষকে উৎসর্গ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আর জি কর ইস্যু, নিয়োগ দুর্নীতি এবং শুভেন্দু অধিকারীর সুপরিকল্পিত লড়াই মমতার ১৫ বছরের সাম্রাজ্যকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। আগামী ৯ মে (২৫ বৈশাখ) নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এনএন/ ৪ মে ২০২৬









