এশিয়া

বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনের অভাবনীয় সাফল্য: সক্ষমতা ৩৯৬ কোটি কিলোওয়াট ছাড়াল

বেইজিং, ২৫ এপ্রিল – বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে চীন। দেশটির জাতীয় জ্বালানি প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষে চীনের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৯৬ কোটি কিলোওয়াটে পৌঁছেছে। এটি পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই বিশাল প্রবৃদ্ধির মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।

বর্তমানে চীনের সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১২৪ কোটি কিলোওয়াটে দাঁড়িয়েছে। পিছিয়ে নেই বায়ুবিদ্যুৎ খাতও, যেখানে সক্ষমতা ২২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৬ কোটি কিলোওয়াটে উন্নীত হয়েছে। মজার বিষয় হলো, সক্ষমতা বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্রপাতির গড় ব্যবহার সময় কিছুটা কমেছে। প্রথম প্রান্তিকে এই সময় ছিল ৭০৩ ঘণ্টা, যা গত বছরের চেয়ে ৬৬ ঘণ্টা কম।

এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বিদ্যুৎ চাহিদার চেয়েও দ্রুত গতিতে সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে বেইজিং। বিশ্লেষকদের মতে, চীন তার শিল্পনীতিকে শক্তিশালী করতে বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর এবং উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এই বিশাল বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের এই বিদ্যুৎ সক্ষমতা ইতোমধ্যেই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের পথে বড় ধাপ পার করল দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর বিদ্যুৎ গ্রিড যেখানে চাহিদার ধীরগতির কারণে স্থবির হয়ে আছে, সেখানে চীন শিল্প সম্প্রসারণ ও বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রযুক্তির বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যেই কাজ করছে বেইজিং।

এস এম/ ২৫ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language