ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিরোধিতা চীনের, সংঘাত অবসানের আহ্বান

তেহরান, ৩ মার্চ – ইরানে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। অবিলম্বে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সারের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই আহ্বান জানান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ওয়াং ই সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে বলপ্রয়োগ করে কোনো সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্ভব নয়।
বরং এটি নতুন সংকটের জন্ম দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদি গুরুতর পরিণতি ডেকে আনে। সামরিক শক্তির প্রকৃত সার্থকতা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার নয়, বরং যুদ্ধ প্রতিরোধ করার মধ্যেই নিহিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। গত মঙ্গলবার ইরানের রাজধানী তেহরান, লেবাননের বৈরুত, বাহরাইনের মানামা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েতে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি ব্যাপক আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টা হামলার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
এই পরিস্থিতি তুলে ধরে গিডিওন সারকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সকল সংকট সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চীন তার গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। এর আগে সোমবার ইরান, ওমান এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন ওয়াং ই। উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া গত রোববার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গেও ইরান সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। তবে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির চার ডজনের বেশি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। দেশটিতে চলা এই যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় আটশো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এসএএস/ ৩ মার্চ ২০২৬









