হরমুজ প্রণালীতে সার্ভিস ফি আরোপের পরিকল্পনা ইরান ও ওমানের

তেহরান, ২৪ জুন – হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর সার্ভিস ফি বা সেবা মূল্য আরোপের বিষয়ে প্রথমবারের মতো একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ইরান ও ওমান। এই বিবৃতিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটিতে সম্ভাব্য শুল্ক বা ফি নির্ধারণের বিষয়ে স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
আগে ইরানের পক্ষ থেকে রাস্তা বা সেতু ব্যবহারের টোল আদায়ের কথা বলা হলেও বর্তমানে তারা বক্তব্যের সুর কিছুটা পরিবর্তন করেছে। এখন তারা টোলের পরিবর্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত সুরক্ষার জন্য সার্ভিস ফি আদায়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে হরমুজ প্রণালীর সীমান্তবর্তী দেশ হিসেবে ইরান ও ওমানের সেখানকার নিরাপত্তা রক্ষার অধিকার রয়েছে। এই বিষয়টির আইনগত ও কৌশলগত দিক খতিয়ে দেখতে দুই দেশ মিলে একটি বিশেষ কার্যনির্বাহী দল বা ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে এর মাধ্যমে ইরান এবং ওমান এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে একটি নতুন ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবহন করা হয়।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই সরু জলপথটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত।
সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ওপেকভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদিত সিংহভাগ জ্বালানি এই পথ ব্যবহার করেই বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই জলপথ দিয়ে গন্তব্যে যায় যার ওপর বিশ্ব অর্থনীতি অনেকাংশে নির্ভরশীল।
এস এম/ ২৪ জুন ২০২৬









