এশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার এখন চীনের লাইনশাইন

বেইজিং, ২৪ জুন – বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে চীন। অত্যাধুনিক কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে বেইজিংয়ের দ্রুত অগ্রগতির নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই অর্জনকে।

জার্মানির হামবুর্গে মঙ্গলবার প্রকাশিত দ্বিবার্ষিক শীর্ষ ৫০০ সুপারকম্পিউটার তালিকা অনুযায়ী, চীনের লাইনশাইন এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের এল ক্যাপিটানকে সরিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে। শেনঝেনের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে স্থাপিত লাইনশাইন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২ দশমিক ১৯৮ এক্সাফ্লপস পারফরম্যান্স অর্জন করেছে।

অর্থাৎ এটি প্রতি সেকেন্ডে ২ কুইন্টিলিয়নের বেশি হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম। সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, লাইনশাইন যুক্তরাষ্ট্রের এল ক্যাপিটানের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। চীনের কোনও সুপারকম্পিউটার সর্বশেষ ২০১৭ সালে এই তালিকার শীর্ষে উঠেছিল।

সে সময় সানওয়ে তাইহুলাইট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে থাকা এল ক্যাপিটান ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে শীর্ষ অবস্থানে ছিল। শীর্ষ ৫০০ তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রন্টিয়ার।

এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অরোরা এবং জার্মানির জুলিক সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের জুপিটার। শীর্ষ ২০টি সুপারকম্পিউটারের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ডের সিস্টেমও রয়েছে।

টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক জ্যাক ডংগারা বলেন, লাইনশাইনের সাফল্য দেখিয়েছে যে উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে সক্ষম। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ চীনকে নিজস্ব বিকল্প প্রযুক্তি তৈরির জন্য আরও উৎসাহিত করছে।

সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য শক্তিশালী জিপিইউ ব্যবহার করা হলেও লাইনশাইনের বিশেষত্ব হলো এটি সম্পূর্ণভাবে সিপিইউ নির্ভর। এটি বিশ্বের প্রথম সিপিইউ ভিত্তিক সুপারকম্পিউটার যা ২ এক্সাফ্লপসের বেশি পারফরম্যান্স অর্জন করেছে।

১৯৯৩ সাল থেকে প্রতি বছর দুইবার প্রকাশিত হচ্ছে এই তালিকা। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইনশাইনের সাফল্য বিশ্ব প্রযুক্তি নেতৃত্বের লড়াইয়ে চীনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এস এম/ ২৪ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language