হরমুজ প্রণালী খুললেও সহসাই তেল আমদানি বাড়াচ্ছে না চীন

বেইজিং, ২২ জুন – হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ চীন তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি ক্রয় বৃদ্ধির পথে হাঁটবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী,
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌচলাচল স্বাভাবিক হলে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা চীনগামী তেলবাহী জাহাজগুলো গন্তব্যের দিকে রওনা হবে। এর ফলে চীনের বন্দরে তেলের সরবরাহ সাময়িকভাবে অনেক বেড়ে যেতে পারে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চীন অধিকাংশ দেশের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে অনেক দেশ জ্বালানি সংকটে পড়লেও চীনের চিত্র ভিন্ন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তেলের মজুত বর্তমানে প্রায় পূর্ণ রয়েছে এবং বেইজিং তাদের বিশাল কৌশলগত মজুত থেকে কোনো তেল উত্তোলন করার প্রয়োজন বোধ করেনি।
এছাড়া দেশটির শোধনাগারগুলোতে পেট্রল ও ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির পর্যাপ্ত সংস্থান রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চড়াও হওয়ায় চীন তাদের আমদানি প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে দিয়েছিল। উচ্চমূল্যের চাপ এড়াতেই বেইজিং এমন কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়।
মূলত যুদ্ধের আগে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে রাখায় চীন এই সংকটকাল মোকাবিলা করতে পেরেছে। এছাড়া বিদেশি ব্যাংক আমানত বা মার্কিন ঋণপত্রের পরিবর্তে তেলের মতো পণ্যে বিনিয়োগ করাকে চীন এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
অক্সফোর্ড জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ ফিলিপ অ্যান্ড্রুজ স্পিড জানান,
চীনের তেল কোম্পানিগুলো দামের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন থাকবে এবং তারা বাজার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে কেনাকাটা বাড়াবে। যুদ্ধের সময় অভ্যন্তরীণ চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং পরিশোধিত তেলের রপ্তানি বন্ধ রাখায় চীনের হাতে এখন পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনকারী দেশে পরিণত হওয়া চীন বর্তমানে নিজের অভ্যন্তরীণ বাজার সুরক্ষার দিকেই বেশি মনোযোগী। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আগের অবস্থায় না ফেরা পর্যন্ত বেইজিং বড় কোনো আমদানির সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
এস এম/ ২২ জুন ২০২৬









