সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা মানুষ: তিন দিনে শতাধিক বসতভিটা বিলীন

গাইবান্ধা, ২৪ জুন – টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি হ্রাস-বৃদ্ধির খেলায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও উপজেলার বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত তিন দিনে এই অঞ্চলে শতাধিক বসতবাড়ি ও প্রায় দুই শতাধিক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে থাকা ভোরের পাখি গ্রামের আরও দুই শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদের পানি বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে। অন্যদিকে তিস্তা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি ওঠা-নামার কারণে নদীর পাড় ধসে পড়ছে, ফলে নদী তীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা ও আমনের ক্ষেত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, প্রতি বছরই পানি বাড়া ও কমার সময় এই ভাঙন দীর্ঘস্থায়ী হয়।
স্থায়ী ড্রেজিং ও প্রতিরক্ষা বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর শত শত বিঘা জমি ও ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ভাঙনকবলিত এলাকায় অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, স্থায়ী প্রতিকারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে।
এস এম/ ২৪ জুন ২০২৬









