গাইবান্ধায় ওজনে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশু, ভিড় বাড়ছে খামারগুলোতে

গাইবান্ধা, ২৪ মে – পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাইবান্ধার বিভিন্ন খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জেলার সাত উপজেলার খামারি ও কৃষকরা প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে লালন পালন করা পশু বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
পশুর হাটে বেচাকেনা পুরোদমে শুরু না হলেও এবার অনেক ক্রেতাই সরাসরি খামারমুখী হচ্ছেন। বিশেষ করে হাটের ভিড়, দালালদের দৌরাত্ম্য ও হাসিলের ঝামেলা এড়াতে ক্রেতারা খামার থেকে পশু কেনাকে নিরাপদ মনে করছেন।
সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের মেসার্স ফ্রেন্ডস ক্যাটল নামের একটি বড় খামারে ওজন মেপে গরু বিক্রি করা হচ্ছে। খামারটিতে ৫০০ টাকা কেজি দরে জীবন্ত গরু বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ক্রেতারা জানান, খামারে সময় নিয়ে পশু যাচাই করার সুযোগ থাকে এবং কোনো প্রকার প্রতারণার ভয় থাকে না।
খামারিরা জানান, এবারে পশুখাদ্য ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তবে স্বচ্ছতা থাকায় ক্রেতারা খামার থেকেই পশু কিনতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা এবার সবচেয়ে বেশি।
সরেজমিনে দেখা যায়, খামারে পশুদের আলু সিদ্ধ, ভুসি, খৈল ও কাঁচা ঘাসের মতো প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। খামারের মালিক জুয়েল জানান, ২০১৭ সালে স্বল্প পরিসরে শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে ১৩০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ডিজিটাল স্কেলে ওজন মেপে পশু বিক্রি করায় ক্রেতারাও সন্তুষ্ট।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এবার প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ হাজার বেশি। হাটগুলোতে অসুস্থ পশু শনাক্তে প্রাণিসম্পদ বিভাগের টিম কাজ করছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ টহল ও নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাল টাকা বা ছিনতাই রোধে পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এনএন/ ২৪ মে ২০২৬









