চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: সাড়ে সাত লাখ মানুষ পানিবন্দি, নিহত ১০

চট্টগ্রাম, ১০ জুলাই – টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যার পানি কিছু এলাকা থেকে নামতে শুরু করলেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সাড়ে সাত লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৭৬টি ইউনিয়নের ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবারের প্রায় ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। এই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রতিটি গ্রামই প্লাবিত হয়েছে। যদিও কিছু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে, তবে তা ধীরগতিতে চলায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সাঙ্গু নদীর পানি দোহাজারি পয়েন্টে এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতকানিয়ার বাজালিয়া এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ গত তিন দিন ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে, যা উদ্ধার তৎপরতা ও তথ্য সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা নৌকা ও ভেলার মাধ্যমে যাতায়াত করছেন।
এদিকে বাঁশখালী উপজেলাতেও বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তা কেটে পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দুর্যোগ কবলিতদের সহায়তায় ইতিমধ্যে ৭০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৬০ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
এনএন/ ১০ জুলাই ২০২৬









