জাতীয়

বাংলাদেশিদের ভিসা না পাওয়ার নেপথ্যে ভুয়া নথি ও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা

ঝিনাইদহ, ৭ ফেব্রুয়ারি – শিক্ষার্থী ভিসায় অস্ট্রেলিয়া যেতে ইচ্ছুক ঝিনাইদহের মাজহারুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রে গমনেচ্ছু ঢাকার মোহাইমিনুল খানের মতো অনেকেই বর্তমানে চরম ভিসা জটিলতায় পড়ছেন।

সব ধরনের কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও ভিসা বাতিলের শিকার হচ্ছেন অসংখ্য বাংলাদেশি। অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং বিবিসি বাংলার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বাংলাদেশিদের ভিসা না পাওয়ার প্রধান কয়েকটি কারণ। এর মধ্যে অন্যতম হলো আবেদনের সময় ভুয়া নথিপত্র জমা দেওয়া, যার মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার সনদ এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট জালিয়াতির ঘটনা ব্যাপক। দ্বিতীয়ত, ভ্রমণ ভিসায় বিদেশে গিয়ে অবৈধভাবে থেকে যাওয়া বা এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালানোর প্রবণতা।

এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সৎ উপায়ে যেতে চাওয়া আবেদনকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সুশাসনের অভাবও ভিসা প্রাপ্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ নীতির কারণে ভিসা প্রদান কমিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের তথ্যমতে, প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে গড়ে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কেবল ইউরোপ থেকেই গত আট বছরে অন্তত চার হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কালে তিনশ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি ইমিগ্র্যান্ট সেন্টিমেন্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈধ উপায়ে যাওয়ার সুযোগও কমছে। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে কেবল সৌদি আরবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী যাচ্ছেন, তবে মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক দেশে শ্রমবাজার কার্যত বন্ধ। পর্যটন খাতের ব্যবসায়ী ইরাম খান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে চীন বা প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ভিসা প্রক্রিয়া আরও কঠিন হতে পারে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে এই সংকট পুরো সিস্টেমের দায়। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে সুযোগ থাকলেও নিজেদের দোষে বাংলাদেশ তা ব্যবহার করতে পারছে না। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অসাধুতার পাশাপাশি রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপতেও গলদ রয়েছে। ব্র্যাকের শরিফুল হাসান জানান, ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশি পাসপোর্টের রিস্ক প্রোফাইল বেড়ে যাচ্ছে, ফলে ইউরোপের দেশগুলো এখন বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি কড়াকড়ি আরোপ করছে।

এস এম/ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language