জাতিসংঘে পাকিস্তানের নীতির কড়া সমালোচনা ভারতের

দিল্লি,২৪ সেপ্টেম্বর- জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে ভারত। সম্প্রতি জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের বৈঠকে ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, অন্য দেশের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা কিংবা সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়া—কোনোটিই পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে পারবে না। এমনকি জাতিসংঘের এই মঞ্চে নাটকীয়তা তৈরি করেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনাহার ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানের অর্থনীতি বর্তমানে অনেকটাই বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল—এমন পরিস্থিতিতে দেশটি কীভাবে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে, সে প্রশ্নও তোলে ভারত।
মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, পাকিস্তান যদি নিজেদের জনগণের কথা চিন্তা করে অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষই বেশি উপকৃত হবে। সন্ত্রাসবাদে সহায়তা করা কিংবা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নাটক করা বন্ধ না করলে দেশটির অর্থনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এ সময় তিনি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত জুন থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে স্থানীয় বাসিন্দারা ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ করছেন। আর এসব বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বহু নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, প্রতিবাদকারীদের কঠোরভাবে দমন করতে ইসলামাবাদ সরকার ওই অঞ্চলে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে গুরুতর মানবিক সংকট তৈরি করেছে।
এর পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গও পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত জানিয়েছে, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। পাকিস্তান অবৈধভাবে দখল করে রাখা ভারতের ভূখণ্ড অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি। নব্বইয়ের দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পেছনেও পাকিস্তানকে সরাসরি দায়ী করেছেন ভারতীয় কূটনীতিক। তার অভিযোগ, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের ভারতে প্রবেশ করিয়েছে। এসব রাষ্ট্রপোষিত সন্ত্রাসীরা শুধু কোনো একটি সম্প্রদায়ের ক্ষতি করেনি, বরং হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বহু কাশ্মীরির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। অথচ যে রাষ্ট্র নিজেই সন্ত্রাসবাদে সহায়তা করে, সেই রাষ্ট্র এখন জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে তদন্তের দাবি জানাচ্ছে—বিষয়টি অত্যন্ত হাস্যকর ও পরিহাসের বলে মন্তব্য করেন ক্ষিতিজ ত্যাগী।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছে। নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পাঠানো একটি চিঠিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। দিল্লির অভিযোগ, সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে স্থায়ী সালিশি আদালতের একটি তথাকথিত রায়কে সামনে রেখে পাকিস্তান জাতিসংঘের কাছে অসত্য ও ভুল তথ্য দিয়েছে। জয়সওয়াল বলেন, সত্যকে বিকৃত করা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে মিথ্যা প্রচার চালানো পাকিস্তানের পুরোনো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান যে রায়ের কথা তুলে ধরছে, সেটি কোনো বৈধ আন্তর্জাতিক আদালতের রায় নয়; বরং বেআইনিভাবে গঠিত একটি কাঠামোর দেওয়া সিদ্ধান্ত।
এস এম/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬







