কানাডায় প্রথমবারের ‘ইনভেস্টমেন্ট সামিট’, ৫ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য

অটোয়া, ১৬ সেপ্টেম্বর- কানাডার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কানাডা ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন করা হয়েছে। টরন্টোতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং বিভিন্ন প্রদেশের প্রিমিয়াররা দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগকারীদের সামনে কানাডার সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাত ও বড় প্রকল্প তুলে ধরছেন।
সম্মেলনে জ্বালানি, অবকাঠামো, ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কানাডার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, দক্ষ জনশক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধস্থায় কানাডার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ও জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিি নিশ্চিত করাই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বিনিয়োগ দেশে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামোর উন্নয়ন, উৎপাদন ও জ্বালানি খাতে সক্ষমতা বাড়ানো এবং কানাডার অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার প্রত্যাশা করছে সরকার।
বিশেষ করে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় কানাডার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ও জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তি খাতেও কানাডাকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে এই বিনিয়োগ উদ্যোগকে ঘিরে এরই মধ্যে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। কয়েকটি নাগরিক সংগঠন ও আন্দোলনকারী গোষ্ঠী সরকারের বিনিয়োগ নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি পরিবেশ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার, আবাসন ব্যয় এবং জনগণের স্বার্থও যথাযথভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সরকার অবশ্য বলছে, নতুন বিনিয়োগ কানাডার অর্থনীতিতে গতি আনবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিনিয়োগ সামিটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে কানাডার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এস এম/ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬







