ইরানের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে গোপনে সহায়তা করছে রাশিয়া

মস্কো, ৩ সেপ্টেম্বর – ইরানকে শব্দের গতির চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ দ্রুতগতির অত্যাধুনিক সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে নেপথ্যে থেকে সহায়তা করছে রাশিয়া। গত কয়েক বছর ধরে সি৪৩০ এল সাংকেতিক নামে একটি গোপন প্রকল্পের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্পে রাশিয়ার কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে এমন একটি শক্তিশালী অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম করে তোলা যা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই প্রকল্পের অধীনে ইরানকে মূলত র্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে মস্কো।
এই প্রযুক্তির ইঞ্জিনের সহায়তায় একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম হয়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি জাহাজবিধ্বংসী এবং স্থলভাগে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব হলো এটি উচ্চ গতির পাশাপাশি তুলনামূলক কম উচ্চতা দিয়ে উড়ে যেতে পারে। এর ফলে শত্রুদেশের রাডার বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে একে শনাক্ত করে ধ্বংস করার জন্য খুব সামান্য সময় পাওয়া যায়। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকায় ইরানের জন্য এ ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান ইতিমধ্যে র্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষা চালালেও রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত কোনো সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মোতায়েন করা হয়নি। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরান ইতিমধ্যে রাশিয়াকে তাদের তৈরি শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে।
এমনকি রাশিয়ার ভেতরে এই ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনেও তেহরান সহযোগিতা করেছে বলে জানা গেছে। পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করে আসছে যে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপগ্রহ চিত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তি বিনিময়ের পর এবার সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গোপন এই প্রকল্পের তথ্য দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ প্রকাশ করছে।
এস এম/ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬







