জার্মানিতে তীব্র তাপপ্রবাহে ১৫ হাজার ৮০০ জনের প্রাণহানি

বার্লিন, ১ সেপ্টেম্বর – জার্মানিতে এবারের গ্রীষ্মকাল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে রইল। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত দেশটিতে শুধুমাত্র অতিরিক্ত গরমের কারণে অন্তত ১৫ হাজার ৮০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে এবারের গ্রীষ্মকাল জার্মানির ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম মৌসুম হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।
জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই তিন মাসে গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০০৩ সালে ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রা নিয়ে রেকর্ড গড়েছিল দেশটি। অর্থাৎ মাত্র শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, দেশটিতে এমন বৈরী পরিস্থিতির নজির খুব একটা দেখা যায় না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর জার্মানিতে গড়ে ২২ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। এর মধ্যে পাঁচ দিন পারদ ৩৫ ডিগ্রির সীমা অতিক্রম করেছে। এমনকি জুনের শেষ দিকে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত তাপজনিত কারণে ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার বড় অংশই মারা গেছেন জুনের তীব্র দাবদাহে। সংস্থাটি এই চরম আবহাওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছে। তীব্র এই তাপপ্রবাহ কেবল জনজীবন নয়, অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
খরার কারণে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রাইন নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় পণ্যবাহী জাহাজ ও ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া পশ্চিম জার্মানিতে শুরু হওয়া দাবানল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রিয়াতেও আবহাওয়া পরিস্থিতির চরম অবনতি লক্ষ্য করা গেছে।
দেশটির ২৬০ বছরের ইতিহাসের মধ্যে এবারের গ্রীষ্মকাল ছিল সবচেয়ে উষ্ণ। প্রথমবারের মতো অস্ট্রিয়ায় তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। ইউরোপের দেশগুলোতে এই চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এস এম/ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬







