ইউরোপ

ইইউ সদস্যপদ নিয়ে আইসল্যান্ডের গণভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

রেকজাভিক, ৩০ আগস্ট – ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ লাভের আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে আইসল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ভোট গণনা যত এগোচ্ছে, ব্যবধান ততই কমে আসছে। দেশটির সরকারি গণমাধ্যম আরইউভির তথ্য অনুসারে, প্রাথমিক ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৭টি ভোট গণনার পর দেখা গেছে, ৫০ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিপক্ষে এবং ৪৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দুই পক্ষের মধ্যে ভোটের ব্যবধান মাত্র ৪৩৫টি।

প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোটিরের নেতৃত্বাধীন মধ্য বামপন্থী সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে এই গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করলেও বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তা এগিয়ে আনা হয়। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার বিষয়টি এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার এই দ্বীপ রাষ্ট্রে ভোটের প্রচারণায় নিরাপত্তা, মৎস্যশিল্প এবং জাতীয় অর্থনীতি প্রাধান্য পেয়েছে।

আইসল্যান্ড বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজার এবং শেনজেন অঞ্চলের অংশ হলেও ইইউর পূর্ণ সদস্যপদ দেশটির জন্য নতুন বাণিজ্যিক ও আর্থিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে আসতে পারে। ২০০৯ সালে ইইউতে যোগদানের আবেদন করলেও ২০১৩ সালে সরকার পরিবর্তনের পর সেই প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছিল। এর প্রধান কারণ ছিল মৎস্যসম্পদ নিয়ে বিরোধ। আইসল্যান্ডের রপ্তানি আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে এই খাত থেকে। বিরোধীদের আশঙ্কা, ইইউর অভিন্ন মৎস্যনীতি কার্যকর হলে দেশের জলসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাবে আইসল্যান্ড।

প্রধানমন্ত্রী ফ্রস্টাডোটির রেইক্যাভিকে ভোট প্রদানের পর জানিয়েছেন, এই গণভোট আইসল্যান্ডের বৈশ্বিক অবস্থান নিয়ে আলোচনার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের অর্থ সরাসরি ইইউতে যোগদান নয়, বরং এটি কেবল আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে। কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা অনুমোদনের জন্য পুনরায় গণভোটের প্রয়োজন হবে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আইসল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য হলেও তাদের নিজস্ব কোনো সামরিক বাহিনী নেই। রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানের পর থেকে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংশ্লিষ্ট মনোভাব দেশটির ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার উদ্রেক করেছে।

এস এম/ ৩০ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language