২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলামে সাজবে শিক্ষাব্যবস্থা: মাহদী আমিন

ঢাকা, ৩০ আগস্ট – দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রমকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সাজানো হবে। এ লক্ষ্যে বর্তমান কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
যার প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাঠ্যক্রমে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও খেলাধুলাবিষয়ক নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপদেষ্টা মাহদী আমিন সরকারের শিক্ষা কাঠামোর এই দূরদর্শী রূপরেখা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন যে শিক্ষা খাতই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে জিপিএ ৫ এর যে কৃত্রিম প্লাবন সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা বন্ধ করে শিক্ষার প্রকৃত মান ফেরানো হচ্ছে।
উপদেষ্টা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ৪টি নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক বই স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস এবং টেকনিক্যাল এডুকেশন।
এর উদ্দেশ্য হলো রোবটিক্স এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এছাড়া শিক্ষকদের ডিজিটাল ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব প্রোগ্রাম চালু করা হবে। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে দক্ষ তরুণদের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী গবেষকদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে কেবল সনদসর্বস্ব শিক্ষা নয় বরং দক্ষতা ও কর্মসংস্থানমুখী এক নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এস এম/ ৩০ আগস্ট ২০২৬









