ভেনেজুয়েলার সাথে ট্রাম্পের বড় তেল চুক্তি: ১০০ বছরের অংশীদারিত্বে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন, ৩০ আগস্ট – ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে একটি বড় চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই চুক্তিকে বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে এই চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে এবং এর পূর্ণাঙ্গ নথি জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়নি।
গত শুক্রবার রাতে ট্রাম্প এই চুক্তির ঘোষণা দেন। এতে ভেনেজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষেত্রগুলোতে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে দেশটির তেল খাতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ আসতে পারে।
এর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা সরকার ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পাওয়ার আশা করছে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে নতুন একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। এই কোম্পানিকে অনুন্নত তেলক্ষেত্রগুলোতে কাজ করার জন্য ১০০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি অধিকার প্রদান করা হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন এই কোম্পানির মোট উৎপাদনের ৫৫ শতাংশ পাবে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই হিস্যার মধ্যে সরাসরি মালিকানা এবং উৎপাদন খরচে তেল কেনার অধিকারের অনুপাত এখনো পরিষ্কার নয়। চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা সংশয় রয়েছে। ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে উৎপাদন বাড়াতে বিপুল বিনিয়োগ ও সময়ের প্রয়োজন হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেলের সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির দাম কমানোর আশা করলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বল্প মেয়াদে এর সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অ্যামি মায়ার্স জ্যাফে জানান, দীর্ঘ মেয়াদে এই চুক্তি সুফল আনলেও বর্তমান খুচরা বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না।
এদিকে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরেও এই চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা একে দেশের সম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাবেক মন্ত্রী রিকার্ডো হাউসমান এই চুক্তিকে লজ্জাজনক হিসেবে বর্ণনা করে বর্তমান সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও এই চুক্তি রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলায় সামরিক তৎপরতার পেছনে তেল দখলই ছিল মূল উদ্দেশ্য। চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এখনো গোপন রাখা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অর্থের উৎস এবং বিনিয়োগের কাঠামো নিয়েও অস্পষ্টতা কাটেনি।
শেভরন ও এক্সনমোবিলের মতো বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিশাল বিনিয়োগের ঝুঁকির কারণে এই চুক্তির চূড়ান্ত সফলতার বিষয়টি এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
এস এম/ ৩০ আগস্ট ২০২৬









