ইরান সংঘাতের জেরে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে টান, সামরিক সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ

ওয়াশিংটন, ২৯ আগস্ট – ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরনের টান পড়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক ব্যবহারের ফলে বিশেষ কিছু অস্ত্রের মজুত দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্যাক ৩ ইন্টারসেপ্টর এবং আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম বা এটিএসিএমএস এর মজুত এখন অত্যন্ত সংকটজনক পর্যায়ে রয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের প্রথাগত প্রক্রিয়ায় একটি অর্ডারস বুক এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানোর বিষয়টি তদারকি করছেন। ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই অস্ত্রগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে। ইউরোপের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা এখন মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে ইউরোপে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র মজুত এখন বিয়ন্ড ক্রিটিক্যাল বা সংজ্ঞায়িত সংকটসীমার নিচে নেমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হতে পারে। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এই আশঙ্কার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে মার্কিন অস্ত্রের মজুত নিয়ে প্রকাশিত তথ্যগুলো সঠিক নয় এবং যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা পেন্টাগনের রয়েছে।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে যদি অস্ত্রের মজুত দ্রুত পূরণ করা না যায় তবে তাইওয়ান কেন্দ্রিক চীন বা ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার কোনো সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে পিছিয়ে পড়তে পারে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের হিসাব অনুযায়ী ইরান সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের মোট প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৬৫ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।
বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। এই সংকটের প্রভাব ইউক্রেন যুদ্ধের ওপরও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে কারণ কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের দাবি জানিয়ে আসছিল।
এস এম/ ২৯ আগস্ট ২০২৬









