উত্তর আমেরিকা

ইউরোপের প্রতিরক্ষা নিশ্চিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন পর্যালোচনায় পেন্টাগন

ওয়াশিংটন, ২৭ আগস্ট – মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষার ভার গ্রহণে ন্যাটো মিত্রদের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ব্যাখ্যা করার তাগিদ দিয়েছেন পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

গত জুলাই মাসে শুরু হওয়া ছয় মাসব্যাপী এই পর্যালোচনার ফলে ইউরোপে মার্কিন সেনা সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মিত্র দেশগুলো। ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি জানান, ওয়াশিংটন মিত্রদের মতামত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করে।

ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের ভূখণ্ডের নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব নিতে কী ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা জানতে চেয়ে একটি প্রশ্নাবলীও পাঠানো হয়েছে। কোলবি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এমন একটি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া হচ্ছে যেখানে ইউরোপ তার নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর প্রধানত নির্ভরশীল থাকবে।

এর আগে ইরানের সাথে উত্তেজনার সময় মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিধিনিষেধের প্রতিক্রিয়ায় পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়া ঘোষণা করেছিলেন। কোলবি আরও বলেন, ভবিষ্যতে ঘাঁটি ব্যবহার এবং আকাশসীমা ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো আরও নমনীয় ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে জানান, ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনে মিত্ররা অগ্রগতি সাধন করছে। চীন কেন্দ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র যখন ইউরোপ থেকে মনোযোগ সরাচ্ছে, তখন থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ দিয়ে আসছেন। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

পেন্টাগন ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ন্যাটোর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় বরাদ্দের পরিমাণ কমিয়ে আনা হতে পারে। মে মাসে জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর ট্রাম্প তাদের পোল্যান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। ইউরোপীয় দেশগুলো এখন ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণে একমত হয়েছে।

এস এম/ ২৭ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language