হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরান-ওমান ঐতিহাসিক সমঝোতা

তেহরান, ২৯ আগস্ট – হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট পথ নির্ধারণে ঐতিহাসিক এক সমঝোতায় পৌঁছেছে ওমান ও ইরান। এই প্রস্তাবিত রুটের বিষয়টি ইতোমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি মোজতবা খামেনিকে অবহিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই চুক্তিটি বিবেচনা করেছে এবং নজিরবিহীন ঐকমত্যে পৌঁছেছে। কাউন্সিলের মোট ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ১২ জনই এই চুক্তির পক্ষে তাদের সম্মতি দিয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো যথাযথভাবে পালন করে, তবে এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথটি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এদিকে এই সমঝোতার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার নীরবতার মধ্যেই পারমাণবিক শক্তিচালিত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। এই রণতরি বর্তমানে ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং আগামী সাত মাস সেখানে অবস্থান করবে।
মার্কিন প্যাসিফিক ফ্লিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপারেশনাল নিরাপত্তার খাতিরে তারা জাহাজের গতিবিধি নিয়ে কোনো বিস্তারিত আলোচনা করবে না। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে একটি সাময়িক করিডোর খোলার বিষয়ে একমত হয়েছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর থেকে সকল নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার করে, জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেয় এবং লেবাননে যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে, তবেই ইরান এই প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার পথে হাঁটবে।
এর আগে সমঝোতা কার্যকর থাকাকালীন ইরান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল রপ্তানি করেছিল এবং বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল। তবে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই প্রকল্পগুলো থমকে আছে।
এনএন/ ২৯ আগস্ট ২০২৬









