ইউরোপ

ইরান সংঘাত: ২০২৭ সাল নাগাদ যুক্তরাজ্যের প্রতিটি পরিবারের ক্ষতি হবে ২,৪০০ পাউন্ড

লন্ডন, ৩১ আগস্ট – ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতের জেরে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যের প্রতিটি পরিবার গড়ে ২,৪০০ পাউন্ডের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এর এক প্রতিবেদনে সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ বা সিইবিআর এর বিশ্লেষণের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে সংঘাত শুরুর পর থেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মজুরি বৃদ্ধির ধীরগতির কারণে চলতি বছর যুক্তরাজ্যের একটি গড় পরিবারের প্রকৃত আয় ১,১০০ পাউন্ড কমে যাবে। ২০২৭ সালে এই আয়ের পরিমাণ আরও ১,৩০০ পাউন্ড হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনৈতিক পরামর্শক সংস্থা সিইবিআর এর তথ্য অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাবে যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলোর প্রকৃত ব্যয়যোগ্য আয় থেকে সর্বমোট ৭০.৪ বিলিয়ন পাউন্ড কমে যাবে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা দুটি ভিন্ন উপায়ে ব্রিটিশ পরিবারগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সিইবিআর এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ লিয়াম ডেলি জানিয়েছেন জ্বালানির উচ্চমূল্য সরাসরি বিভিন্ন বিল এবং অন্যান্য প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে আয়ের প্রতিটি পাউন্ড দিয়ে আগের চেয়ে কম পণ্য বা সেবা কেনা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন পরোক্ষ প্রভাবটি ধীরগতির হলেও সমান গুরুত্বপূর্ণ যা মূলত মুদ্রানীতি এবং শ্রমবাজারের মাধ্যমে কাজ করে। তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে ধারণা করা হয়েছিল যে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এ বছর সুদের হার কমাবে। কিন্তু বাস্তবে ঋণের খরচ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন যে ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার একবার বাড়ানো হতে পারে।

জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার ফলে প্রকৃত আয়ের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হবে তা পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ডেলি মনে করেন হাজার হাজার মাইল দূরে সংঘটিত একটি সংঘাত যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে যা সাপ্তাহিক কেনাকাটা এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল পরিশোধের সময় অনুভূত হচ্ছে।

জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম তাদের ত্রৈমাসিক মূল্যসীমা ৪ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অক্টোবর মাসে জ্বালানি বিল আরও বাড়তে যাচ্ছে। এছাড়া এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এর হিসাব মতে ইরানে সংঘাতের পর থেকে তেল ও গ্যাসের পাইকারি দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ও সড়ক পরিবহন খাতে বড় অংকের অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হচ্ছে।

এস এম/ ৩১ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language