লিপজিগ বিমানবন্দরে ব্যর্থ ড্রোন হামলা: রাশিয়াকে দায়ী করে পাল্টা ব্যবস্থার ঘোষণা জার্মানির

বার্লিন, ২ সেপ্টেম্বর – জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরে গত মাসে সংঘটিত একটি ব্যর্থ ড্রোন হামলার জন্য সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেছে বার্লিন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে জার্মানির তোলা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো।
জার্মান কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট লিপজিগ বিমানবন্দরে ইউক্রেনগামী একটি পণ্যবাহী বিমানের কাছে সামরিক বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, এই বিমানবন্দরটি ইউরোপ ও ন্যাটোর সামরিক রসদ পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ড্রোনটি একটি বিমানের ডানায় আঘাত করে মাটিতে পড়ে গেলেও কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি।
একই দিনে আরও একটি ড্রোন অন্য একটি পণ্যবাহী বিমানের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বিমানবন্দরের নিকটবর্তী একটি মাঠ থেকে সামরিক বিস্ফোরকের আলামতসহ আরও একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালেকজান্ডার ডোব্রিন্ড সাংবাদিকদের জানান, তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থার মদদে পেশাদার ব্যক্তিরা এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।
তিনি দাবি করেন, ড্রোনের কারিগরি বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহৃত বিস্ফোরক প্রযুক্তির সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড অভিযানের মিল রয়েছে। এদিকে রাশিয়ার ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ ছাড়াই জার্মানি পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভাও একে নতুন নিষেধাজ্ঞার একটি অজুহাত হিসেবে দেখছেন এবং এর কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হামলার অভিযোগ ওঠার পর জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াদেফুল জানান, বন শহরে অবস্থিত রাশিয়ার কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এছাড়া বার্লিনের রাশিয়া হাউসের সঙ্গে চুক্তি বাতিল, রাষ্ট্রদূতকে তলব এবং রুশ নাগরিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে জার্মানি। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতে এই ঘটনায় জার্মানির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন।
এস এম/ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬







