দক্ষিণ এশিয়া

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১১শ ছাড়িয়েছে

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের পর বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার অভিযান
হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পর নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে।

কাঠমান্ডু, ২ সেপ্টেম্বর – নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো এখন পর্যন্ত নেপাল ও ভারত থেকে ১ হাজার ১২৭ জন এবং চীনের তিব্বত অংশ থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে।

নিখোঁজদের মধ্যে নেপালে ৪ হাজার ৮৫৮ জন এবং চীনে ৫৪৬ জন রয়েছেন বলে জানা গেছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত বিভিন্ন জেলা থেকে মরদেহ উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত রাসুয়া জেলা থেকে ৪৫টি, নুওয়াকোটে ১৫৫টি, ধাদিংয়ে ৫৯টি, চিতওয়ানে ৩৪৮টি এবং ভারতের সীমানা এলাকা থেকে ৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ১ হাজার ১১৩টি মরদেহের ময়নাতদন্ত ও পরিচয় শনাক্তের কাজ শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৯৫টি মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহগুলোর তথ্য পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণে প্রায় ৮ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।

এছাড়া নেপাল, ভারত ও চীনের সম্মিলিত উদ্ধারকারী দলও অনুসন্ধান কাজে অংশ নিচ্ছে। দুর্গত এলাকাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উচ্চঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। হিমবাহ ধসের প্রভাবে ভোতেকোশি নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জনবসতি ও সড়ক ছাড়াও সীমান্ত বাণিজ্য অবকাঠামো এবং বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর টানেলে এখনও ৬৩৯ জন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, এসব প্রকল্প থেকে ইতোমধ্যে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কিছু টানেলের ভেতরে ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন।

এস এম/ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬



FAQ

নেপাল-তিব্বত বন্যায় কতজন মারা গেছেন?

নেপাল পুলিশের হিসাবে নেপাল ও ভারতের সীমান্ত এলাকা মিলিয়ে ১,১২৭টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তিব্বতে চীনা কর্তৃপক্ষ ১৬ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। দুই হিসাবের পদ্ধতি এক নয়, তাই ১,১৪৩-কে একক চূড়ান্ত সরকারি মৃত্যুসংখ্যা হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।

নেপালে কতজন এখনও নিখোঁজ?

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ হিসাবে ৪,৮৫৮ জন নিখোঁজ।

বন্যার কারণ কী?

হিমালয়ের নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহের অংশ ধসে বরফ, পাথর, কাদা ও জল নদী ব্যবস্থায় নেমে আসার পর আকস্মিক বন্যা তৈরি হয়।

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীদের কী হয়েছে?

বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ৬৩৯ জন এখনও নিখোঁজ বা আটকে রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজন সুড়ঙ্গে আটকে থাকতে পারেন বলে উদ্ধারকারী দলগুলি অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

কতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে?

নেপাল পুলিশের হিসাবে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৬,৫৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে আলাদাভাবে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান কি এখনও চলছে?

হ্যাঁ। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনুসন্ধান চলছে। তবে বিপুল ধ্বংসাবশেষ, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কঠিন ভূপ্রকৃতির কারণে অভিযান অত্যন্ত কঠিন।

Back to top button