নেপালে বন্যায় টানেলে আটকা শত শত শ্রমিক: উদ্ধারে চলছে পাহাড় বিস্ফোরণ

কাঠমান্ডু, ১ সেপ্টেম্বর – নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরে ভয়াবহ বন্যার পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিশাল টানেল নেটওয়ার্কের ভেতরে শত শত শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব টানেলে আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধারে পাহাড়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরির চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের জীবন বাঁচাতে টানেলের ভেতরে কৃত্রিমভাবে বাতাস পাঠানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিবিসি নেপালির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর বন্যায় মোট ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বুধবারের সেই প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর থেকে এসব প্রকল্পের ৯০০ জনের বেশি কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
তবে ঠিক কতজন শ্রমিক ভূগর্ভস্থ টানেলের ভেতরে আটকা পড়েছেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বসনেত জানান, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাসুওয়াগাধি, লাংটাং, চিলিমে এবং আপার ত্রিশুলি এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ত্রিশুলি ৩এ প্রকল্পে পাথর সরিয়ে পথ তৈরির জন্য বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা মনে করছেন, জীবিতদের উদ্ধারের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত এলাকায় এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৯৩৯ জন এবং তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৯২৫।
যাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক এবং বড় একটি অংশ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকাগুলো থেকে এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৩৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে নেপাল ও চীনা সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরা কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স জানিয়েছেন, বন্যায় টানেলগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক স্থানে পলি ও পাথরের স্তূপ জমে ভূসংস্থান পুরোপুরি বদলে গেছে। উদ্ধারকৃত মরদেহের পরিচয় শনাক্তে চিতওয়ান জেলায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। বন্যা সংক্রান্ত তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে নেপাল ও চীন উভয় দেশই কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
এস এম/ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
নেপালে বন্যায় জলবিদ্যুৎ টানেলে কতজন শ্রমিক আটকে আছেন?
ঠিক কতজন টানেলের ভিতরে আটকে আছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সর্বশেষ প্রতিবেদনে প্রায় ৯০০ জলবিদ্যুৎকর্মী নিখোঁজ এবং তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন টানেলে থাকতে পারেন বলে জানানো হয়েছে।
নেপালের বন্যায় কতজন মারা গিয়েছেন?
১ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ হিসাবে নেপালে ৯৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে Associated Press জানিয়েছে। তিব্বতে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের কীভাবে উদ্ধার করা হচ্ছে?
উদ্ধারকারীরা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ, ভারী যন্ত্রপাতি ও অনুসন্ধান সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি টানেলের ভিতরে কৃত্রিমভাবে বাতাস পাঠানো হচ্ছে।
কোন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে বেশি সমস্যা হয়েছে?
Upper Trishuli-1, Trishuli-3A, Upper Trishuli-3B, Chilime, Langtang Khola এবং Rasuwagadhi-সহ একাধিক প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপালের বন্যায় কতজন নিখোঁজ?
১ সেপ্টেম্বরের Associated Press প্রতিবেদনে নেপালে ৩,৯১৬ জন নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে।







