‘শত্রুবাহিনী গুঁড়িয়ে যাবে’, রণাঙ্গনে জয়ের দাবি পুতিনের

মস্কো, ২ সেপ্টেম্বর – রণাঙ্গনে রুশ বাহিনী প্রতিনিয়ত জয় ছিনিয়ে আনছে এবং ইউক্রেনীয় সেনাদের একের পর এক অঞ্চল থেকে পিছু হটতে বাধ্য করছে বলে জোরালো দাবি করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিয়েভের বর্তমান নেতৃত্বকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা আলোচনায় বসার সম্ভাবনা তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দেওয়া এক বিস্তৃত বক্তব্যে পুতিন স্বীকার করেন যে, রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা বাস্তবসম্মত ক্ষতি সাধন করেছে এবং এই ড্রোন ব্যবস্থা তাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তা সত্ত্বেও যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, শত্রুবাহিনী ভেঙে গুঁড়িয়ে যাবে এতে তার কোনো সন্দেহ নেই। এই সাফল্য ঠিক কত দিনের মধ্যে আসবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না জানালেও রাশিয়ায় নতুন করে সৈন্য সমাবেশের গুঞ্জনকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সাড়ে চার বছরের এই যুদ্ধে রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। পুতিন দাবি করেন, আগস্ট মাসেই ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক এলাকার প্রায় ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে তাদের সেনারা। এ ছাড়া ইউক্রেনীয় বাহিনীর দুটি বড় দলকে রুশ সেনারা ঘিরে ফেলেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ড্রোন হামলার হুমকিকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে পুতিন হুঁশিয়ার করেন যে, এমন কিছু ঘটলে রাশিয়াও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানোর পথ খুঁজে নেবে। কিরগিজস্তানে আয়োজিত সম্মেলনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন সাফ জানান, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো প্রকার দর কষাকষি করা সম্ভব নয়।
তবে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে মস্কো এখনো প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসতে নিজের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করে পুতিন বলেন, যদি কেউ এই প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে তবে তাতে তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এ ছাড়া জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার পেছনে রাশিয়াকে দায়ী করার কঠোর সমালোচনা করে পুতিন একে বার্লিনের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে আখ্যা দেন।
এস এম/ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬







