পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে তুরস্ক

আঙ্কারা, ২ সেপ্টেম্বর – তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। গত মঙ্গলবার কিরগিজস্তানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই বার্তা দেন।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আঙ্কারা ও মস্কোর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে ইতোমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই নতুন সিদ্ধান্ত সেই উদ্বেগের মাত্রা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে এরদোয়ান জানান যে আক্কুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্তমানে এর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী এরদোয়ান বর্তমান প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনেও রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি মজবুত বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে পুতিন তুরস্ককে রাশিয়ার বিশেষ সুবিধা পাওয়া অন্যতম রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন। বর্তমানে রুশ সংস্থা রোসাটম তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে আক্কুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে যা দেশটির বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করবে।
নিজস্ব জ্বালানি সংকটে থাকা তুরস্ক তাদের চাহিদার ৭০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়। গত বছর রাশিয়া থেকে দেশটি ৪২.৩৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। ন্যাটো সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তুরস্ক রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেয়নি বরং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
ওয়াশিংটন এর আগে তুরস্ককে সতর্ক করে জানিয়েছিল যে রাশিয়াকে সহায়তা করলে তুর্কি ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের ওপর গৌণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। পশ্চিমা জোট মনে করে আঙ্কারার এই নীতি মস্কোকে একঘরে করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে।
এস এম/ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬







