ইউরোপ

ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতির অভিযোগ রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মস্কো, ২ সেপ্টেম্বর – পূর্ব এশীয় অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া এক বক্তব্যে সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার গ্রুশকো। তিনি অভিযোগ করেন, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো রাশিয়ার সাথে সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিষয়টি এখন আর কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং তাদের বর্তমান তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা সরাসরি যুদ্ধের দিকেই এগোচ্ছে। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে পশ্চিমারা ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করেছে উল্লেখ করে গ্রুশকো বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো সেখানে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। উত্তরের এই অঞ্চলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি হাইব্রিড যুদ্ধ শুরু করা হলেও সেখানে পশ্চিমারা কখনো সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারবে না।

কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিয়েভ সরকার সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের মাধ্যমে কৌশলগত সুবিধা নিতে চায় যাতে তারা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাই এই ধরনের সাময়িক সমাধান কোনো কাজে আসবে না।

অন্যদিকে স্থগিত হওয়া শস্য চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, রাশিয়ার খাদ্য ও সার বিশ্ববাজারে সরবরাহের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা কখনোই বাস্তবায়ন করা হয়নি। পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা নীতিরও কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি যা কার্যত এই চুক্তিটিকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে।

একসময় শান্ত থাকা বাল্টিক সাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে এই অঞ্চলটি এখন সামরিক সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে যেকোনো মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত সামরিক দুর্ঘটনা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জার্মানির সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রসঙ্গে গ্রুশকো হুঁশিয়ারি দেন, বোনে অবস্থিত রুশ কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্তের জবাবে রাশিয়াও খুব শিগগিরই নিজস্ব উপায়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে। তিনি জার্মানিকে কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তেজনার পথ বেছে নেওয়ার জন্য দায়ী করেন।

তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে গ্রুশকো জানান, এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে উত্তর সমুদ্র পথ দিয়ে কনটেইনার পরিবহন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

এস এম/ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button