গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন: বিহারের নতুন দাবিতে বাড়ছে কূটনৈতিক জটিলতা

নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট – ১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদি সময়সীমা চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এই চুক্তি নবায়নের প্রাক্কালে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিহার রাজ্যের নতুন দাবি এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
বিহার সরকারের পক্ষ থেকে গঙ্গার পানির হিস্যা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ইতিবাচক আশ্বাস চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং জেডিইউ নেতা সঞ্জয় কুমার ঝার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিহারের নেতারা দাবি করেন যে, গত তিন দশকে ফারাক্কা পয়েন্টের সিংহভাগ পানি বিহার থেকে প্রবাহিত হলেও রাজ্যটি তার ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে সেচ, শিল্প ও পানীয় জলের সংকটের কথা উল্লেখ করে তারা বর্তমান পানি বণ্টন সূত্রের পরিবর্তনের দাবি জানান।
বিহারের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মতে, ১৯৯৬ সালে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তৎকালীন সরকার বিহারের স্বার্থ বিবেচনা করেনি। শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশকে পানি দেওয়ার ফলে বিহারের অভ্যন্তরীণ নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ছে এবং রাজ্যে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে উজানে পলি জমে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। ২০৫০ সালের সম্ভাব্য জনসংখ্যার চাহিদা বিবেচনা করে চুক্তির শর্ত পরিবর্তনের জন্য তারা কেন্দ্রকে চাপ দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান ৫৪টি অভিন্ন নদীর মধ্যে একমাত্র গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ নিয়েই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। তিস্তা চুক্তি পশ্চিমবঙ্গের আপত্তির কারণে ঝুলে থাকলেও এখন গঙ্গা চুক্তি নিয়ে বিহারের এই অবস্থান বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির পরিমাণে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সে বিষয়ে ঢাকার নীতিনির্ধারকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহ অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে পানি ভাগাভাগি করা হয়।
এস এম/ ২৫ আগস্ট ২০২৬









