সিলেট

স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট বাংলাদেশ: বছরে পাচার হচ্ছে ৯১ হাজার কোটি টাকা

সিলেট, ২১ আগস্ট – বাংলাদেশে স্বর্ণ চোরাচালান বর্তমান সময়ে এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের জন্য দেশটি এখন অন্যতম নিরাপদ ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি ও খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য মতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার স্বর্ণ ও অলংকার অবৈধভাবে দেশে ঢুকছে। বছরে এর পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার ৩০০ কোটি টাকায়।

এর সঙ্গে হীরা যুক্ত হয়ে মোট চোরাচালানের পরিমাণ বছরে ৯১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে আকাশপথে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্বর্ণ চোরাচালানের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

গত পাঁচ বছরে এই বিমানবন্দরে প্রায় দুই হাজার কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। শুধু চলতি বছরেই বেশ কয়েকটি বড় চালান ধরা পড়েছে যেখানে ফ্লাইটের টয়লেট প্যানেল কিংবা কার্গো হোল্ড ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ফলের ক্রেটেও স্বর্ণ লুকিয়ে আনার নতুন কৌশল ধরা পড়েছে।

এই সিন্ডিকেটের শিকড় অত্যন্ত গভীরে। এর সাথে দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সিলেটে ১৭.৫ কেজি স্বর্ণ জব্দের ঘটনায় আদালতে নথিপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে আসামিদের জামিন নেওয়ার ঘটনাটি এই খাতের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে দেয়।

আকাশপথে আসা স্বর্ণের প্রায় ৯০ শতাংশই পরে স্থলপথে ভারতে পাচার হয়ে যায়। মেহেরপুর ও যশোরসহ সীমান্তঘেঁষা ৩০টি জেলা এই করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মূলত ভারত ও বাংলাদেশের শুল্ক হারের বিশাল ব্যবধানই চোরাকারবারিদের উৎসাহিত করছে।

বাজুস সভাপতি এবং মুখপাত্র আনোয়ার হোসেন জানান যে তারা দীর্ঘ সময় ধরে চোরাচালান রোধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। তিনি বলেন অবৈধভাবে স্বর্ণ আসার কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

এই সংকট নিরসনে ব্যাগেজ রুল সংশোধন এবং সীমান্ত ও বিমানবন্দরে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বর্ণ চোরাচালান শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয় বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এস এম/ ২১ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language