মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখবে চীন

বেইজিং, ২১ আগস্ট – মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ইরান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে অপরিশোধিত তেল আমদানি চালিয়ে যেতে পারে চীন। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে বেইজিং এই অবস্থান বজায় রাখবে।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক এরিকা ডাউন্স জানান, ইরানের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর ইরানি তেলের সর্ববৃহৎ ক্রেতা ছিল চীন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এরিকা ডাউন্স বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যদি তেল পরিবহনের সাথে জড়িত চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, তবে তাদের লাভ এবং ক্ষতির দিকটিও হিসাব করতে হবে। কারণ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীন বিরল খনিজ উপাদান রফতানি সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে।
তথ্যানুসারে, চীনা কাস্টমস নথিতে এই তেল অনেক সময় মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ থেকে আমদানি করা হিসেবে দেখানো হয়। ফলে আমদানির প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত করা কিছুটা কঠিন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিস্থিতির মধ্যেও চীন আমদানির ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে।
ডাউন্স আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বা ইসরায়েলি কার্যক্রমের ফলে সরবরাহের গতি কিছুটা কমলেও আমদানির প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। হরমুজ প্রণালির বাইরে জলসীমায় এখনও বেশ কিছু ইরানি তেলের জাহাজ চীনের দিকে যাত্রার অপেক্ষায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প পথ খুঁজে বের করবে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে ইরান থেকে চীনের তেল আমদানি শূন্যে নেমে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।
এস এম/ ২১ আগস্ট ২০২৬









