প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট

সিউল, ১৮ আগস্ট – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক আদেশে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া কাটছাঁট করার প্রেক্ষাপটে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতার ওপর জোর তাগিদ দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং।
একই সাথে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিজেদের সেনাবাহিনীর পূর্ণ ট্রানজিশন দ্রুত সিউলের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশনা দেন।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেন, পরমাণু অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আসছে এবং কোনো ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেনি। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সাথে নিজের অত্যন্ত চমৎকার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি এই যৌথ সামরিক অনুশীলনকে অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল বলে আখ্যা দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সিউলের অনেক আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অবিবেচক ও বিশৃঙ্খল সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমন সংকট মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সিউলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘদিনের মিত্রতা মজবুত রাখার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজের শক্তিতে বলীয়ান হতে হবে। লি বলেন, একটি শক্তিশালী সামরিক জোট যেমন নিরাপত্তার মূল ভিত্তি তৈরি করে, তেমনি নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি করা মিত্র হিসেবে আমাদের প্রয়োজনীয়তা ও মূল্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেই দক্ষিণ কোরিয়া তার সশস্ত্র বাহিনীর স্বাধীন পরিচালনা ক্ষমতা পুনর্দখলে কাজ করবে। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শেষ না হয়ে অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে স্থগিত হয়েছিল।
ফলে দুই কোরিয়া আইনত এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। কোরীয় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর যুদ্ধকালীন যৌথ পরিচালনার মূল নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে যায়। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থিত কম্বাইন্ড ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান হিসেবে একজন চার তারকা মার্কিন জেনারেল দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের বাহিনীর ওপর শান্তিকালীন নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলেও যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের ক্ষমতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অধীনেই রয়ে গেছে। বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ক্ষমতা সিউলের হাতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও নানা কারণে তা পিছিয়ে গিয়েছে।
এস এম/ ১৮ আগস্ট ২০২৬









