
রাত তখন প্রায় শেষের দিকে। পূর্ব লন্ডনের ইস্ট হ্যামের সেন্ট বার্থোলোমিউস রোডে হঠাৎ গুলির শব্দ। মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ভোর প্রায় ৩টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ, লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। রাস্তার পাশে একটি গাড়ির ভেতর চল্লিশের কোঠার এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
নিহত মাসুম আহমদের বয়স ৪০ বছর। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কারিকোনা গ্রামের মোহাম্মদ আমির আলীর বড় ছেলে। ছোটবেলা থেকেই তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন। তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যও ব্রিটেনে থাকেন। তিনি এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
রাতের সেই গুলির ঘটনার খবর পরিবারের কাছে পৌঁছায় ভোরে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় প্রায় ৪টার দিকে পুলিশ মাসুমের বাড়িতে যায়। পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পরিবারকে জানানো হয়। পরে পরিবার জানতে পারে, গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মাসুম কী কারণে ওই সময় সেন্ট বার্থোলোমিউস রোডে ছিলেন, কারা তাঁর ওপর গুলি চালিয়েছে কিংবা হত্যার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁর চাচা মোহাম্মদ সুমন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে তিনি মাসুমের মৃত্যুর খবর পান। তবে কী পরিস্থিতিতে তাঁকে গুলি করা হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে পরিবার তখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি।
মাসুমের সাবেক সহকর্মী হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি একসময় একটি এস্টেট এজেন্সিতে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনে বসবাস করলেও বাংলাদেশের সঙ্গে, বিশেষ করে তাঁর পৈতৃক এলাকা বিশ্বনাথের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ ছিল। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি বিশ্বনাথেও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ ও শোক তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটিকে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। তদন্তের নেতৃত্বে থাকা ডিটেকটিভ চিফ ইনস্পেক্টর ড্যান হুইটেন জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি বের করা এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে তাঁর দল কাজ করছে।
তথ্যসূত্র:
Metropolitan Police Service, London, 18 August 2026









