ট্রাম্প সংঘাত বাড়ালে ইউরোপের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের

তেহরান, ১৯ আগস্ট – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি চলমান সংঘাতের পরিধি আরও বৃদ্ধি করেন, তবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। বুধবার যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফাইনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
তেহরানের উচ্চপদস্থ সরকারি সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরান দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় বুলগেরিয়ার মতো দেশগুলোর নাম রয়েছে। সম্প্রতি বুলগেরিয়া তাদের বেজমিয়ার বিমানঘাঁটি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।
এ ছাড়া সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিও তেহরানের নজরে রয়েছে। সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া ফাইবার-অপটিক ক্যাবলগুলোতে আঘাত করার পরিকল্পনাও খতিয়ে দেখছে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী।
ইরান সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে তেহরান এই সংঘাতকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার সব পথ খোলা রাখবে।
ওই সূত্রটি স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সীমা অতিক্রম করলে ইরান যেকোনো মূল্যে নিজেদের রক্ষা করবে এবং এই প্রতিরোধের ব্যাপ্তি ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এমন সময়ে এই খবরটি সামনে এল যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সাথে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না এবং অদূর ভবিষ্যতে কোনো বৈঠকের সম্ভাবনাও নেই। অন্যদিকে, ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাদের ভূখণ্ডে হামলার জন্য যে দেশের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহৃত হবে, সেটিকেই তারা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করবেন।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কাছে এমন শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের একাংশে আঘাত হানতে সক্ষম। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও বর্তমানে একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে তা কার্যকর নেই।
এস এম/ ১৯ আগস্ট ২০২৬









