সম্পাদকের পাতা

ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন সুইডেনপ্রবাসী বাবা

নজরুল মিন্টো

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের দক্ষিণাঞ্চলে পানিতে পড়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা। কাঠের একটি হাঁটার ব্রিজের ওপর থেকে হঠাৎ পানিতে পড়ে যায় শিশুটি। সন্তানকে ডুবে যেতে দেখে এক মুহূর্ত দেরি না করে পানিতে ঝাঁপ দেন তিনি। নিজের জীবন বিপন্ন হতে পারে কি না, পানির গভীরতা কত কিংবা আবার তীরে ফিরতে পারবেন কি না, এসব ভাবার সময় তখন তাঁর ছিল না। শেষ পর্যন্ত ছেলেটি জীবিত উদ্ধার হলেও তাকে বাঁচাতে পানিতে নামা বাবা আর ঘরে ফিরতে পারেননি।

স্টকহোমের দক্ষিণে Hokarangsbadet এলাকায় বুধবার ১২ আগস্ট বিকেলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রে নিহত ব্যক্তির নাম বাবুল বলে জানা গেছে। তিনি সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাসিন্দা এবং পরিবার নিয়ে সুইডেনে বসবাস করছিলেন।

দুর্ঘটনার মুহূর্তটি হৃদয়বিদারক। ঘটনার সময় বাবুলের দুই ছেলে পানির ধারের একটি কাঠের হাঁটার পথের ওপর খেলছিল। এক পর্যায়ে হঠাৎ এক ছেলে পানিতে পড়ে যায়। সন্তানকে পানিতে পড়তে দেখেই বাবা সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধারে ঝাঁপ দেন। কিন্তু ছেলেকে তুলতে গিয়ে নিজেই বিপদে পড়ে যান।

ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থল দিয়ে যাচ্ছিলেন এক নারী। পানিতে বাবা ও সন্তানকে বিপজ্জনক অবস্থায় দেখে তিনি জরুরি সেবায় খবর দেন এবং উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত ওই নারীই বাবা ও শিশুটিকে পানি থেকে তুলতে সক্ষম হন। শিশুটি গুরুতর আঘাত ছাড়াই বেঁচে যায়। বাবুলের অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। তাঁকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন রক্ষা করতে পারেননি।

যে হাঁটার ব্রিজে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরদিন Farsta ফায়ার স্টেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জায়গাটি পরিদর্শন করেন। সেখানে হাঁটার পথের রেলিংয়ে দুটি খোলা অংশ দেখা যায়, যার নিচে গভীর পানি। জায়গাটি আরও নিরাপদ করতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে।

Hokarangsbadet কোনো নির্জন বা পরিত্যক্ত জলাশয় নয়। এটি Drevviken লেকের পাশে স্টকহোম শহর পরিচালিত একটি জনপ্রিয় পারিবারিক বিনোদনকেন্দ্র। শহর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই জায়গাটিকে শিশুদের উপযোগী বা Barnvanligt সৈকত হিসেবে বর্ণনা করেছে। সেখানে ব্রিজ, পিকনিকের জায়গা, আউটডোর জিমসহ বিভিন্ন বিনোদন সুবিধা রয়েছে।

একটি পরিবারের কাছে শিশুটির বেঁচে থাকা একই সঙ্গে আশীর্বাদ এবং আজীবনের বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে। ছেলেটি হয়তো বড় হবে, একদিন কৈশোর পেরিয়ে যুবক হবে। জীবনের অসংখ্য সকাল-সন্ধ্যা তার সামনে আসবে। কিন্তু তার জীবনের সঙ্গে চিরদিন জড়িয়ে থাকবে স্টকহোমের সেই বিকেল, একটি লেক, কাঠের হাঁটার পথ আর একজন বাবা, যিনি সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনের কথা ভাবেননি।


Back to top button
🌐 Read in Your Language