উত্তর আমেরিকা

ইরান নয়, শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে পারে যুক্তরাষ্ট্রই: সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ওয়াশিংটন, ১৫ আগস্ট – ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান অর্থনৈতিক চাপের কৌশল শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ব্যর্থ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও হোয়াইট হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক নীতিনির্ধারক মার্ক গিন্সবার্গ।

তার মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা মূলত একটি উচ্চঝুঁকির অর্থনৈতিক লড়াই বা চিকেন গেম। এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই পিছু হটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিন্সবার্গ বলেন, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন কিছু নয়।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। কারণ বর্তমানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সরাসরি সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে এবং ইরান তার অর্থনীতি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকেও প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গিন্সবার্গের মতে, হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের মধ্যে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়েছে।

সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সমাধান পরিকল্পনা কী, তা অস্পষ্ট থাকা। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান নীতিতে কোনো সুস্পষ্ট চূড়ান্ত লক্ষ্য দেখা যাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট আসলে কী করতে চান তা এখনো অজানা।

গিন্সবার্গ উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি চাপ প্রয়োগের একটি অভিযানে নেমেছে যা অভূতপূর্ব সহনশীলতার অভিযান হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে ফেলে তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করা।

তবে শুধু অর্থনৈতিক চাপে ইরানকে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করানো যাবে কি না তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন গিন্সবার্গ। তিনি এই পরিস্থিতিকে এমন একটি পর্যায়ের সাথে তুলনা করেছেন যেখানে দুই পক্ষই অনড় থেকে দেখছে সংঘর্ষের আগে কে আগে সরে দাঁড়ায়।

গিন্সবার্গের ধারণা, শেষ পর্যন্ত ইরান সরকার নতি স্বীকার করার আগে ট্রাম্প প্রশাসনই সমঝোতার পথে যেতে বাধ্য হতে পারে। এই সংকটে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় এই এলাকার নিরাপত্তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে।

এমতাবস্থায় ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও আঞ্চলিক সংঘাত এড়ানো। গিন্সবার্গের মূল্যায়ন অনুযায়ী, একটি সুস্পষ্ট সমাপ্তি কৌশলের অভাবই বর্তমান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

এস এম/ ১৫ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language