সাংবাদিকদের ঝুঁকির মুখে ফেলে ট্রাম্পের গোপনে বিমান বদল, বাড়ছে বিতর্ক

ওয়াশিংটন, ১৩ আগস্ট – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোপনে বিমান পরিবর্তনের ঘটনায় সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জেনেও সাংবাদিক, নিরাপত্তাকর্মী ও হোয়াইট হাউসের কর্মীদের একটি বিপদজনক বিমানে রেখে ট্রাম্প নিজে নিরাপদ বিমানে আঙ্কারা ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মার্কিন প্রশাসনের এ ধরনের ভূমিকা নিয়ে এখন বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ৭ জুলাই ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক সফর করেন ট্রাম্প। কাতারের রাজপরিবারের উপহার দেওয়া একটি নতুন রাজকীয় বিমানে চড়ে তিনি আঙ্কারা পৌঁছান। তবে ফেরার সময় হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট নতুনটির পরিবর্তে পুরোনো বিমানেই দেশে ফিরবেন। সে সময় এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প তখন দাবি করেছিলেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা যেন নতুন বিমানটি পরিদর্শন করতে পারেন, সেজন্য সেটি আগেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জানা যায়, বিলাসবহুল সেই নতুন বিমানে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। বিপরীতে ট্রাম্পকে বহনকারী পুরোনো বিমানটিতে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল।
তবে ঘটনার চাঞ্চল্যকর দিকটি ছিল ট্রাম্পের অতি গোপনীয়তায় বিমান ত্যাগ। সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বাভাবিক আলাপচারিতা সেরে এবং বিমানে ওঠার পর তিনি সবার অগোচরে একটি বিকল্প দরজা দিয়ে বিমান থেকে নেমে যান। এরপর একটি খাবার সরবরাহের গাড়িতে করে রানওয়েতে অপেক্ষমাণ ছোট একটি সামরিক বিমানে চড়ে আঙ্কারা ত্যাগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, সফরসঙ্গী সাংবাদিক ও কর্মীদের নিয়ে পুরোনো বিমানটি তখন আকাশে ওড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার কথা জানলেও তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়নি। গত সোমবার ওয়াশিংটন পোস্ট এই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ করার পর বিষয়টি সবার সামনে আসে।
এর আগে অধিকাংশ সাংবাদিকই জানতেন না যে প্রেসিডেন্ট তাদের ফেলে অন্য বিমানে চলে গেছেন। ৮ জুলাই বিমানে ওঠার পর নিরাপত্তা বাহিনী সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল, যা যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। এ বিষয়ে ট্রাম্প কৌতুক করে বলেছিলেন যে সাংবাদিকরা সম্ভবত একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে রয়েছেন।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাংবাদিকরা অভিযোগ করছেন যে তাদের মূলত ট্রাম্পের নিরাপত্তার জন্য টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের দাবি, তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেছেন। তবে সাংবাদিকদের ঝুঁকির মুখে রেখে কেন তাদের জানানো হয়নি, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এস এম/ ১৩ আগস্ট ২০২৬









