উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আবেদন অনলাইনে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে

ওয়াশিংটন, ১১ আগস্ট – অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার জন্য শিগগিরই অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব এবং আশ্রয়ের আবেদনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মূলত আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ধরনের অভিবাসন সুবিধার আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ অন্তত ১৮০ দিন ধরে চালু থাকলে সেটি বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনেই জমা দিতে হবে। ফলে ওই নির্দিষ্ট আবেদনগুলো আর কাগজে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বা ইউএসসিআইএস সোমবার ফেডারেল রেজিস্টারে নতুন এই নিয়ম প্রকাশ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো আবেদন পুরোপুরি অনলাইনে নেওয়ার আগে কর্তৃপক্ষ অন্তত ৬০ দিনের নোটিশ প্রদান করবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রিন কার্ডের নতুন আবেদন ও নবায়ন, পরিবারের মাধ্যমে অভিবাসনের আবেদন, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন, আশ্রয়ের আবেদন এবং কাজের অনুমতিপত্রের আবেদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আবেদনকারীদের সাধারণত ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

তারা সরাসরি অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন অথবা আগে পূরণ করা আবেদনপত্রের পিডিএফ কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে আপলোড করতে পারবেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, কাগজের আবেদন থেকে দ্রুত অনলাইন ব্যবস্থায় যাওয়ার লক্ষ্যেই এই নিয়ম করা হয়েছে।

এর ফলে ডাকযোগে পাঠানো নথিপত্র গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য আলাদা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমবে। অনলাইনে আবেদন নেওয়া হলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত করা সম্ভব হবে এবং আবেদনপত্রের ভুলও অনেক কমে যাবে। এছাড়া অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্য সহজে বিশ্লেষণ করা যাবে বিধায় জালিয়াতি শনাক্ত করা এবং আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাই আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।

তবে যেসব আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন করতে সক্ষম নন, তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ জন্য আবেদনকারীদের আলাদা একটি আবেদনপত্র জমা দিতে হবে এবং প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করে ইউএসসিআইএস সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ ধরনের ছাড়ের আবেদন করতে ২৫ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে।

অভিবাসন আবেদন ব্যবস্থায় কাগজের ব্যবহার কমানোর অন্যতম কারণ হলো এর পেছনে হওয়া বিপুল খরচ। ২০২৫ অর্থবছরে ইউএসসিআইএস ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া করেছে। একই সময়ে ডাকযোগে আসা প্রায় ৪৫ কোটি ৩০ লাখ পৃষ্ঠা কাগজের আবেদন সামলাতে হয়েছে সংস্থাটিকে।

এই বিশাল পরিমাণ কাগজের আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণে সংস্থাটির প্রায় ৩৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর জানিয়েছে, অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক হলে নথিপত্র তথ্য সংরক্ষণ এবং স্ক্যান করার খরচ বহুগুণ কমবে। এতে শুধুমাত্র খরচই কমবে না, আবেদন যাচাই এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার কাজও দ্রুত হবে।

এস এম/ ১১ আগস্ট ২০২৬


Back to top button