হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা

ওয়াশিংটন, ১২ আগস্ট – দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মঙ্গলবার ইসলামাবাদে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি শান্তির অনুকূলেই এগোচ্ছে।
কাতার ও পাকিস্তানের নিবিড় মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বর্তমানে তেহরান সফর করছেন। তবে ওমানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও প্রণালিটি এখনই পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
এই শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার তার অবস্থান আরও কঠোর করেছেন। তিনি ইরানের কাছে বিভিন্ন হামলায় নিহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তির জন্য কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না।
অন্যদিকে ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং তাদের জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো চুক্তি লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আলী বায়েজ মনে করেন, উভয় পক্ষের এই কঠোর শর্তই সমঝোতার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অস্থিরতার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও দৃশ্যমান হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সামরিক উত্তেজনাও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। মঙ্গলবার মার্কিন অবরোধ ভেঙে পালানোর সময় একটি পানামার জাহাজে গুলি চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। এছাড়া ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগরসহ লিবিয়া, রাশিয়া এবং সৌদি আরবের তেল শোধনাগারেও সম্প্রতি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘোলাটে পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আনোয়ার গারগাশ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই অঞ্চলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধ বা শান্তির দোলাচলে ঝুলে থাকতে পারে না এবং বৃহত্তর স্বার্থেই এখানে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
এস এম/ ১২ আগস্ট ২০২৬









