ইউরোপ

ইইউর নতুন ডিজিটাল সীমান্ত ব্যবস্থা: ইউরোপের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

লন্ডন, ১৯ জুলাই – ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন প্রবর্তিত ডিজিটাল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণে অপেক্ষার সময় অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতালির রাজধানী রোমের প্রধান বিমানবন্দরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন এই পদ্ধতির ফলে ব্রিটিশ যাত্রীদের সীমান্ত পার হতে আগের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বল্পমূল্যের ইউরোপীয় এয়ারলাইন রায়ানএয়ার গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে ইউরোপগামী যাত্রীদের হাতে বাড়তি সময় নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন সীমান্ত ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জটিলতা এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অনেক বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ইইউর এই এন্ট্রি এক্সিট সিস্টেম মূলত একটি ডিজিটাল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশকারী অ-ইইউ নাগরিকদের আঙুলের ছাপ ও মুখের ছবি অর্থাৎ বায়োমেটিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যখন শেনজেন এলাকা ত্যাগ করেন, তখন ওই তথ্য পুনরায় যাচাই করা হয়।

সাধারণত বিমানবন্দরের স্বয়ংক্রিয় কিয়স্ক বা ই-পাসপোর্ট গেটের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তথ্য নিবন্ধন করতে হয়। গত বছরের অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে এই পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।

নতুন এই ব্যবস্থার প্রভাবে ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণে যাত্রীদের কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ সারির কারণে অনেক যাত্রী নির্ধারিত ফ্লাইট ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে এই ব্যবস্থাকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এর ফলে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এবং দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হচ্ছে।

রোমের ফিউমিচিনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান এভিয়েশন কর্মকর্তা ইভান বাসাতো জানান, আগে ব্রিটিশ যাত্রীদের সীমান্ত পার হতে গড়ে সাত মিনিট সময় লাগলেও এখন তা বেড়ে প্রায় ২০ মিনিটে দাঁড়িয়েছে।

তিনি মনে করেন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করানো গ্রহণযোগ্য নয়। এই ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার এবং একই তথ্য বারবার যাচাই করার প্রক্রিয়া কমানো প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভোগান্তির চিত্র ফুটে উঠেছে সাধারণ যাত্রীদের অভিজ্ঞতায়। যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ারের বাসিন্দা কার্ল জানান, শিশুদের নিয়ে তাকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। অন্যদিকে, পর্তুগালের ফারো বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইইউর কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে দেশগুলোর সংযোগে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে প্রায়ই এই দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হচ্ছে।

তবে ইউরোপীয় কমিশন দাবি করেছে যে, অধিকাংশ বিমানবন্দরে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও জনবল সংকট কাটিয়ে উঠতে না পারলে যাত্রী অসন্তোষ আরও বাড়বে।

এস এম/ ১৯ জুলাই ২০২৬


Back to top button