বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে ফ্রান্সের হারে প্যারিসে দাঙ্গা, আটক ১৬০

প্যারিস, ১৬ জুলাই – বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে ফ্রান্সের বিদায়ের পর দেশটির রাজধানী প্যারিসে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ম্যাচ শেষে প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজি ও মর্টার নিক্ষেপ করেছে বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা।
এই সহিংস পরিস্থিতির দায়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। প্যারিস পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস জানিয়েছে যে আটককৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং চুরির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
শহরের উপকণ্ঠে রেমন্ড কুনো সড়কে অন্তত ১২টি ময়লার কনটেইনারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করেও মর্টার নিক্ষেপ করা হয়। তবে এই ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হননি। এছাড়া একটি সুপারমার্কেটেও হামলা চালিয়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করে দাঙ্গাকারীরা।
প্রসিকিউটরস অফিসের বিবৃতি অনুযায়ী ১৪ ও ১৫ জুলাই রাতের অভিযানে মোট ৯৮ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৬৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ২১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে মূলত চুরি এবং দাহ্য পদার্থ বহনের অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে এই সংখ্যা ও অভিযোগের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য যে এবারের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ফ্রান্সের জাতীয় দিবস বা বাস্তিল দিবসের দিনে। প্রতি বছর ১৭৮৯ সালের বাস্তিল দুর্গ দখলের স্মৃতিতে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়।
জাতীয় দিবস ও গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল ম্যাচ একই দিনে হওয়ায় প্যারিস পুলিশ আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করেছিল। প্রায় ৫ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আরও ২ হাজার অতিরিক্ত জেন্ডারমেরি এবং সমসংখ্যক দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।
জনপরিসরে মদ্যপান ও আতশবাজি বহনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সহিংসতা ঠেকানো যায়নি। মাঠে খেলার প্রথমার্ধে মিকেল ওয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরো গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ফ্রান্সের ফাইনালের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়। এর আগেও বড় ফুটবল ম্যাচে হারের পর ফ্রান্সে সহিংসতার ইতিহাস রয়েছে।
এস এম/ ১৬ জুলাই ২০২৬









