ইরান থেকে মুক্তি পেলেন মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারি, ট্রাম্পের প্রশংসা

ওয়াশিংটন, ১৬ জুলাই – ইরান থেকে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ইরানি-মার্কিন নারী ডেনা কারারি। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এবং দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ডেনার আইনজীবী জ্যারেড জেনসার গত বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ৫৩ বছর বয়সী ডেনা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইরানের শিরাজ শহরে আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হন। সে সময় ইরানি কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্ট জব্দ করে। তাকে সরাসরি কারাগারে রাখা না হলেও শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতার অভিযোগে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে ডেনার ওপর নজরদারি আরও কঠোর করা হয়। আইনজীবী জ্যারেড জেনসার দাবি করেছেন যে ডেনা কারারিকে রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে আটকে রাখা হয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই তার এই মুক্তি সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেনার মুক্তির খবর জানিয়ে ইরানের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে এই মুক্তির পেছনে কোনো গোপন চুক্তি বা বন্দিবিনিময় হয়েছে কি না সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পেশাগত জীবনে ডেনা কারারি ক্যালিফোর্নিয়ার একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং একটি অলাভজনক সংস্থার মাধ্যমে ইরানি শিশুদের কল্যাণে কাজ করেন।
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর তার এই ফিরে আসায় স্বজনদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তবে কামরান হেকমতি ও রেজা ওয়ালিজাদাহসহ আরও কয়েকজন মার্কিন নাগরিক এখনো ইরানের কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এস এম/ ১৬ জুলাই ২০২৬









