ইরানের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ১৭ জুলাই – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছেন। এর আওতায় দেশটিতে নতুন করে বিমান হামলা এবং হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোতে মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে গত মঙ্গলবার রাতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে ট্রাম্প এই রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পিকঅ্যাক্স পাহাড়ে বোমা হামলার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে গত বুধবার আরও দুই দফা বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এ সময় বেশ কয়েকটি জাহাজকে ইরানের উপকূলের দিকে যেতে বাধা দেওয়া হয়।
খার্গ দ্বীপের দিকে অগ্রসরমাণ একটি জাহাজকে কয়েক দফা সতর্ক করার পর সেটি পিছু না হটায় হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের টানা পঞ্চম দিনের হামলা। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প এখনো আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খোলা রেখেছেন।
তবে তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। মূলত ইরানকে চাপে ফেলতেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তির প্রয়োগ করছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পিকঅ্যাক্স পাহাড়কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
গ্রানাইট পাথরের ৩০০ থেকে ৪৭৫ ফুট গভীরে অবস্থিত এই স্থাপনায় সাধারণ বোমা দিয়ে আঘাত হানা কঠিন হলেও ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন আধুনিক বোমা অনেক গভীরে গিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। খার্গ দ্বীপ বা হরমুজ প্রণালির দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে।
এতে ভবিষ্যতে যেকোনো দর-কষাকষিতে যুক্তরাষ্ট্র সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ মার্কিন সেনাদের সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলবে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে দিতে পারে।
এস এম/ ১৭ জুলাই ২০২৬









