ইউরোপ

ইসরায়েলি হেফাজতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ গাজাগামী নৌবহরের জার্মান অধিকারকর্মীর

বার্লিন, ১৬ জুলাই – গাজাগামী মানবিক সহায়তাবহী নৌবহরের সদস্য ও ফিলিস্তিনপন্থী জার্মান মানবাধিকারকর্মী অ্যানা লিডকে ইসরায়েলি হেফাজতে থাকাকালীন যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে তার দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং ইসরায়েলে দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বেআইনিভাবে দেহ তল্লাশির সময় কারারক্ষীরা ২৫ বছর বয়সী লিডকেকে জোরপূর্বক হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেন। তার চিৎকার থামাতে মুখ চেপে ধরা হয় এবং পরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। লিডকে জানান, নির্যাতনের সময় তিনি পুরুষ কারারক্ষীদের হাসির শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।

তার ধারণা, রক্ষীরা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছিলেন এবং সম্ভবত এর ভিডিও ধারণ করছিলেন। গত বছরের ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজাগামী নৌবহরটি আটক করে। এরপর লিডকেকে ইসরায়েলে নিয়ে গিয়ে পাঁচ দিন আটকে রাখা হয়।

লিডকে বলেন, ফ্লোটিলার কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং তাদের স্তব্ধ করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের সহিংসতা চালানো হয়েছে। তিনি গত ডিসেম্বরে প্রথমবার এই অভিযোগ সামনে আনেন। পরবর্তীতে আরও বেশ কয়েকজন কর্মী একই ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ তুললেও তারা নাম প্রকাশ করেননি।

লিডকের আইনজীবী মুনা হাদ্দাদ ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের দাবিতে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেছেন। ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ এর এই আইনজীবী জানান, ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি নির্যাতনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে চ্যালেঞ্জ করতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

লিডকে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলা তার দায়িত্ব। তিনি মনে করেন, চুপ থাকলে এমন ঘটনা অন্যদের সঙ্গেও ঘটবে। মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

লিডকে জানান, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ইতালি থেকে প্রায় ১০০ কর্মীর সঙ্গে যাত্রা শুরুর আগে তিনি সম্ভাব্য নির্যাতনের ব্যাপারে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিলেও এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল।

এস এম/ ১৬ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language