এশিয়া

উত্তর কোরিয়ার রণসজ্জা ও দক্ষিণ কোরিয়ার ড্রোন বাহিনী: উপদ্বীপে বাড়ছে উত্তেজনা

সিওল, ২৮ জুন – কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পর দক্ষিণ কোরিয়াও বিশাল ড্রোন বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার বন্দরনগরী নামফোতে পাঁচ হাজার টন ধারণক্ষমতার যুদ্ধজাহাজ চো হাইওন এর অন্তর্ভুক্তি অনুষ্ঠানে কিম জং উন নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার ঘোষণা দেন। কিম জানান, পর্যায়ক্রমে ১০ হাজার টন শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

এর পাশাপাশি দেশটি উন্নত সংস্করণের রকেট গোলন্দাজ ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। কিম জং উনের মতে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা অর্জনই তাদের জাতীয় কৌশলের প্রধান লক্ষ্য। এদিকে উত্তর কোরিয়ার এই তৎপরতার জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ লাখ সেনাসদস্যকে দক্ষ ড্রোনযোদ্ধা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানান, সম্মুখসারির ইউনিটগুলোতে ১০ হাজার ড্রোন সরবরাহ করা হবে। তিনি মনে করেন, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন এখন রাইফেলের মতো প্রতিটি সেনার ব্যক্তিগত অস্ত্র হওয়া উচিত।

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরিয়া যুদ্ধের পর আজ পর্যন্ত দেশ দুটির মধ্যে কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। ফলে কাগজে-কলমে দুই দেশ এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সময়ে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও উত্তপ্ত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেগুলো বারবার থমকে গেছে।

এস এম/ ২৮ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language