৫ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’ তৈরি করবে দক্ষিণ কোরিয়া, প্রস্তুত হচ্ছে বিশাল বাহিনী

সিওল, ২৭ জুন – উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ লাখ সেনাসদস্যকে ড্রোন যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।
শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই নতুন পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্মুখসারির যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন সামরিক ইউনিটে দেশে তৈরি লক্ষাধিক ড্রোন মোতায়েন করা হবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক জানিয়েছেন,
২০২৯ সালের মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য ১ লাখ ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই সংখ্যা কমিয়ে প্রায় ৬০ হাজারে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ড্রোন ২০২৬ সালের মধ্যেই মোতায়েনের উপযোগী করা হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে,
ড্রোনকে এখন থেকে সাধারণ যুদ্ধের সরঞ্জাম হিসেবে দেখা হবে। প্রতিটি সেনাসদস্য যেন ড্রোনকে তাদের দ্বিতীয় ব্যক্তিগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ড্রোন এখন আর নির্দিষ্ট কিছু ইউনিটের সম্পদ নয় বরং এটি একটি সর্বজনীন যুদ্ধাস্ত্র।
নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে ড্রোন তৈরিতে এখন আর চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে না। পরিবর্তে শতভাগ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিউল। সাম্প্রতিক ইউক্রেইন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতগুলো প্রমাণ করেছে যে ড্রোনের সঠিক ব্যবহার যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সামরিক কৌশল সাজাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার মনুষ্যবিহীন আকাশযানের হুমকির কথা মাথায় রেখে ড্রোন-বিধ্বংসী লেজার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া সেনাবাহিনী শীঘ্রই ২০ হাজার একবার ব্যবহারযোগ্য সাশ্রয়ী ড্রোন সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করবে। আধুনিক যুদ্ধকৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত ড্রোন এবং লয়টারিং মিউনিশন অর্জনের কাজও এগিয়ে চলছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চায়।
এস এম/ ২৭ জুন ২০২৬









