এশিয়া

পূর্ব এশিয়ায় তীব্র দাবদাহে জনজীবন ও কৃষিখাতে চরম বিপর্যয়

টোকিও, ১৩ আগস্ট – পূর্ব এশিয়াজুড়ে নজিরবিহীন ও তীব্র দাবদাহে জনজীবন ও কৃষিখাতে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মাটির নিচে থাকা আলু সেদ্ধ হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে হংকং ও জাপানে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এই চরম বৈরি আবহাওয়াকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং এমন এক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা আগে কখনও দেখা যায়নি।

তিনি জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির গ্যাংওন প্রদেশের ইয়াংগু কাউন্টিতে এক মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা গেছে। স্থানীয় কৃষক লি সাং-হিউক তার আলু ক্ষেত খুঁড়ে দেখেন যে অতিরিক্ত তাপে মাটির নিচে থাকা আলুগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।

কেবল আলু নয়, গুয়াংজু অঞ্চলের তরমুজ চাষিরাও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় এই তাপদাহে ইতোমধ্যে ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৯ লক্ষাধিক গবাদি পশু ও ১৪ লাখ খামারের মাছ মারা গেছে। গত ২ আগস্ট ইয়াংসান শহরে ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যা ১৯০৪ সালের পর দেশটিতে সর্বোচ্চ।

জাপানেও পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। একাধিক স্থানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় আবহাওয়া সংস্থা প্রথমবারের মতো কোকুশোবি বা নির্মম উত্তপ্ত দিন শব্দটি ব্যবহার করেছে। টোকিওর একটি চিড়িয়াখানায় গরমে তিনটি সিংহের মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে মানুষের তৈরি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ছাড়া এই ধরনের তীব্র দাবদাহ ঘটা প্রায় অসম্ভব ছিল। বিশ্ব উষ্ণায়ন না থাকলে এমন তাপদাহ গড়ে ১০ হাজার বছরে মাত্র একবার দেখা যেত। এদিকে হংকংয়ে তাপমাত্রা ৩৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে যা ১৮৮৪ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে সেখানকার শ্রমজীবী মানুষের জন্য নির্ধারিত সতর্কবার্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর না থাকায় সাবেক আবহাওয়া প্রধান লাম চিউ ইং তীব্র সমালোচনা করেছেন।

চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে এবং উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে রাতের তাপমাত্রাও আশঙ্কাজনকভাবে বেশি থাকছে। জলবায়ু বিজ্ঞানী অধ্যাপক জুন-ই লি জানান তিব্বত মালভূমি ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের উচ্চচাপ বলয় এবং এল নিনোর প্রভাব এই পরিস্থিতির মূল কারণ।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ১৯৯১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়ায় উষ্ণায়নের গতি আগের তিন দশকের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন না কমালে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় আরও নিয়মিত হয়ে উঠবে।

এস এম/ ১৩ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language