সাইবার হামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে উত্তর কোরিয়া

পিয়ংইয়ং, ১১ আগস্ট – উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র সমর্থিত হ্যাকাররা সামরিক, কূটনৈতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে সাইবার হামলা চালাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জেনিয়াসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকিং গোষ্ঠী কিমসুকি স্পিয়ার ফিশিং আক্রমণে এআই দিয়ে তৈরি বিভিন্ন নথি ব্যবহার করছে। এই গোষ্ঠীটি গবেষণা প্রতিবেদন কিংবা আমন্ত্রণপত্রের আদলে তৈরি নথির আড়ালে ক্ষতিকর ফাইল লুকিয়ে রাখছে।
জেনিয়াসের দাবি অনুযায়ী, এআই ব্যবহারের ফলে খুব অল্প সময়ে বাস্তবসম্মত ও পরিশীলিত নথি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক সাইবার হামলাগুলো আরও দ্রুত এবং বড় পরিসরে পরিচালনা করা সহজ হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারীরা নিজেদের শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই বড় ভাষা মডেল বা এলএলএম চালানোর জন্য ওলামা, জিপিটি ফোর অল এবং এলএম স্টুডিওর মতো ওপেন সোর্স টুল ব্যবহার করেছে। উত্তর কোরিয়ার হ্যাকিং গোষ্ঠীগুলো গত কয়েক বছর ধরে আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বহুবার সাইবার হামলা চালিয়েছে।
ব্রিটিশ ব্লকচেইন বিশ্লেষণ সংস্থা এলিপ্টিকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসেই উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে। ওয়াশিংটন ডিসির স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো জেনি টাউন এ প্রসঙ্গে বলেন যে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার ও প্রোগ্রামাররা নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহারে যথেষ্ট দক্ষ।
তিনি সাইবার হামলায় এই প্রযুক্তির ব্যবহারকে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা বলে মনে করছেন না। সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ মার্ক টি হফম্যান প্রযুক্তিটির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই প্রযুক্তি ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড পরিচালনার বাধা কমিয়ে সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে। তার মতে, বর্তমানে এ ধরনের হামলা চালাতে আগের মতো উন্নত হ্যাকিং দক্ষতা বা উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা কমে আসছে।
এস এম/ ১১ আগস্ট ২০২৬









